




শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুল । সারা বাংলাদেশের সমস্ত জলাশয়েই জলজ ফুল শাপলাকে ফুটে থাকতে দেখা যায়। আমাদের বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশী চোখে পরে সাদা শাপলা(Water Lily) । এই সাদা শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম “Nymphaea nouchali”, এটি Nymphaeaceae পরিবারভুক্ত । প্রাচীন কালে গ্রীকরা এই ফুল জলপরী দেবীকে উৎসর্গ করতো। এই দেবীর নাম ছিলো Nymph। সেখান থেকেই শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea হয়েছে।
বংশ পরিচয়:
Kingdom: Plantae
Division:Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Order: Nymphaeales
Family: Nymphaeaceae
Genus: Nymphaea
Species:N.nouchali
বাংলাদেশে কয়েক প্রজাতির শাপলা দেখতে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে শুধু মাত্র সাদা শাপলই আমাদের জাতীয় ফুলের মর্যাদা পেয়েছে, অন্য কোনো রঙের শাপলা তা পায়নি। বাংলাদেশের শাপলাদের রং সাধারণত সাদা, লাল, লালচেগোলাপী আর নীলচে সাদা হতেই বেশী দেখা যায় । জলের উপর ভেসে থাকে শাপলা ফুল আর তার বড় সবুজ পাতা। পাতাগুলো দেখতে যেন একেকটা সুন্দর থালা । সাধারণত শাপলা ফুল পানির উপরে ছড়ানো অবস্থায় থাকে--কদাচিৎ পানির অল্প নীচে থাকতে পারে, কোথাও কোথাও এই অল্প ডুবে থাকা শাপলাকে “ডুবুরি শাপলা” বলে । শাপলা ফুলের এক-একটি রিংএ ৬টি পাপড়ি ও ৬টি পুংকেশর থাকে, তবে অনেক শাপলার আবার এর বেশিও হতে দেখা যায়। শাপলার পাতা আর ফুলের কান্ড বা ডাটি বা পুস্পদন্ড পানির নিচে মূলের সঙ্গে যুক্ত থাকে আর এই মূল যুক্ত থাকে মাটির সঙ্গে । এই মূল থেকই আবার নতুন শাপলা জন্ম নেয় । শাপলার কান্ড বা ডাটা বা পুস্পদন্ড সবজী হিসেবেও খাওয়া হয় । আজকাল এই শাপলা ফুলের কান্ড বা ডাটা বা পুস্পদন্ড বাজারে বিক্রি হচ্ছে হরহামেসাই । পূর্ণবিকশিত শাপল ফুলের গর্ভাশয়ে গুড়ি গুড়ি বীজ থাকে। আঠালো এই বীজ গ্রামের ছোটো ছোটো বাচ্চাদের খেতে দেখা যায় । তাছাড়া এই বীজ ভেজে এধরনের খাবার তৈরী করা হয় যার নাম “ঢ্যাপের খৈ”। খেতে দারুন খুবই চমৎকার। কিন্তু উপযুক্ত সময়ে গর্ভাশয়ের এই বীজ সংগ্রহ না করা হলে শেষ পর্যায়ে তা শুষ্ক হয়ে যায় । শাপলা সারা বছর ধরেই একটু-আকটু ফুতে দেখা যায় তবে বর্ষায় ও শরৎ কালে এদের ফুটার সিজন বলা যায়। তখন এরা ফুটে প্রচুর পরিমানে। সমস্ত বদ্ধ জলাসয়ে এরা তাদের রাজত্য কায়েম করে নেয়।
বাংলাদেশে সাধারণত যেসব শাপলা বেশী চোখে পরে....
No comments:
Post a Comment